অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, দিল্লির সরকারের সঙ্গে ঢাকার গত সরকারের ঘনিষ্ঠতা থাকলেও বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশটির সম্পর্কের বিষয়ে দূরত্ব রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার সেই দূরত্ব ঘোচাতে কাজ করবে। মানুষ যেন ভাবে ভারত ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর জন্য আইন মন্ত্রণালয় থেকে বলা হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভারতকে চিঠি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন এই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
রোববার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেয়ার পর এটিই গণমাধ্যমের সঙ্গে তার প্রথম মতবিনিময়।
✪ আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার বিবৃতিটি বানোয়াট, দাবি জয়ের
মতবিনিময়ের শুরুতে ছাত্র–জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সোনালি অধ্যায় নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘এ নিয়ে আমিও বিভিন্ন সময়ে কথা বলেছি, সেটার সঙ্গে কীভাবে বিরোধ করি। আমি মনে করি, দুই সরকারের (বাংলাদেশ ও ভারত) মধ্যে খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এটা আমরা সবাই জানি।’
তিনি বলেন, ‘এখানে একটা কথা, মানুষের মাঝে বা মনে যে কতটুকু সোনালি অধ্যায় চলছিল, সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। আমরা চেষ্টা করব যে সম্পর্কটা শুধু দুই দেশের মধ্যে নয়, শুধু সরকারের মধ্যে নয়; দুই দেশের সার্বিক যে অস্তিত্ব, তার মধ্যে মানুষ খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
✪ আরও পড়ুন: শেষমেশ সাকিবের ক'পা'ল পু' 'ড়' 'লো !
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘মানুষ যেন ভাবে ভারত আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, আমরা এটাই চাই। বাংলাদেশের মানুষ যেন ভাবে ভারত আমাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা সেদিকে সম্পর্কটাকে নিয়ে যেতে চাই এবং আমরা চাইব ভারত আমাদের সহায়তা করবে। কারও সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক রাখতে চাই না।’
বিশ্বের নানা দেশের সঙ্গে ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক বজায় রাখা অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তৌহিদ হোসেন বলেন, যদি কেউ এই সরকারকে এভাবে চিত্রিত করতে চায় যে কোন এক দিকে, এটার কোনো মানে নেই। এই সরকার সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, ‘আমরা যেমন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখব, চীনের সঙ্গেও ভালো রাখব। ভারসাম্যমূলক এই সম্পর্ক আমরা বজায় রেখেছি। আমরা যুক্তরাষ্ট্রসহ পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গেও মসৃণ ও ভালো সম্পর্ক চাই।’
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, জাতিসংঘ অন্তর্বর্তী সরকারকে যেকোনো ব্যাপারে সহযোগিতা করতে চায়। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক, সেটা যতটুকু স্মুথ (সহজ) করা যায়। আমরা সমর্থন হিসেবে অনেকের কাছ থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাচ্ছি।’
তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর যেসব উদ্বেগ (কনসার্ন) বিভিন্ন সময়ে ব্যক্ত হয়েছে, বস্তুত সেটা আমাদেরই কনসার্ন। মানবাধিকারের বিষয়ে সরকার বেশ গুরুত্ব দেবে।’

Post a Comment